আমাদের সন্তান ও স্ক্রিন-আসক্তি


এই যুগে আমাদের মা-বাবার একটি নালিশ সবচে বেশি শোনা যায়। তারা বলে, ‘আমার পরিবারের সবচে’ বড় সমস্যা, শিশুদের স্ক্রিনের প্রতি ঝোঁকে পড়া। এমন কি তারা রীতিমতো এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে।’ এ নালিশ আমি অসংখ্য বার শুনেছি।

এখানে স্ক্রিন বলতে হতে পারে ঘরের দেওয়ালে ঝুলন্ত টেলিভিশনের পর্দা। হতে পারে শিশুদের হাতে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পর্দা। সবগুলো সমান বিপদজনক। এসবের মধ্যে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই। এ ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে ফিল্ম, সংগীত, গেইমস ইত্যাদি সম্প্রচার করা হয়। যার অধিকাংশই বিজাতীয়দের হাতে নির্মিত।
এ-কথা সত্য যে, শিশুরা যা দেখে যা শুনে সবই তাদের প্রভাবিত করে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমেও প্রভাবিত হতে থাকে তারা। তাদের মন-মগজ এবং শরীর তো প্রভাবিত হয়ই। পাশাপাশি প্রভাবিত হয় তাদের বিশ্বাস এবং চিন্তাও।
ফলে একসময় এমন শিশু ও তার পরিবারের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। একটা সময় এসে শিশুটি পরিবার থেকে একেবারে ছিটকে পড়ে বহুদূর। বঞ্চিত হয়ে যায় পারিবারিক দীক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে। আর সে প্রবেশ করে এক অনিরাপদ অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতে। বস্তুত এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে বিনোদন হয় ঠিক। কিন্তু তার প্রচুর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি সাধিত হয়।
▌তাহলে সমাধান কী? সমাধান হলো-
• এক. আপনাকে সতর্কতার সাথে বিষয় ও উপকরণ নির্ধারণ করতে হবে । সুতরাং মোবাইল-ট্যাব ইত্যাদি ডিভাইসে শুধু তাই দেখতে দেওয়া যেতে পারে যা তার জন্য উপকারী হবে। কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে ক্ষতিকারক ভিডিও, অডিও, গেইমস ইত্যাদি।
• দুই. ডিভাইস ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণে গুরুত্ব দিতে হবে। এই নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। সুতরাং, পুরো দিনে দুইঘণ্টার বেশি মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। এই দুইঘণ্টাও যেনো খণ্ডিত হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
• তিন. যথাসম্ভব ইলেকট্রনিক গেইমের পরিবর্তে এমন খেলনা ব্যবস্থা করুন যাতে শিশুর শ্রম ও বল প্রয়োগ হয়। অথবা স্ব-দেশীয় খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে পারেন। এই খেলার ব্যবস্থা ঘরোয়াভাবে হতে পারে, আবার মাঠেও হতে পারে।
• চার. টেলিভিশনের পর্দার পরিবর্তে এমন বিনোদনের ব্যবস্থা করুন যা শিশুকে আত্মিকভাবে পরিপুষ্ট করবে, তার বিবেকবুদ্ধি সচল করবে, মেধা সমৃদ্ধ করবে আর সামাজিক আচার-আচরণের বিভিন্ন যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করবে।
• পাঁচ. শিশুমনে কুরআনী পাঠশালার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করুন। আপনার শিশুকে উপযুক্ত পাঠাগার কিংবা শিশু প্রতিভা বিকাশকেন্দ্রের সাথে যুক্ত রাখতে হবে।
মনে রাখবেন, শিশু হলো আপনার কাছে আমানত। এই পন্থা অবলম্বন করায় মনের মতো খেলনা না পেয়ে আজ হয়তো সে কান্না করবে। কিন্তু কাল অন্ধকার ভবিষ্যতের জন্য কাঁদতে হবে না তার।
▌আমাদের পরিবার: শাশ্বত স্বর্গ, সুরক্ষিত দুর্গ ▌
মূল: শাইখ খালিদ বিন সাউদ আল হুলাইবী
অনুলিপি ও অনুবাদ: সাজ্জাদ ইউনুস